প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে এবার শারদীয়ার আমেজ শুরুর আগেই সবথেকে বড় রাজনৈতিক ধামাকা! সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ, সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে যোগ দিলেন বাংলার বিনোদন দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ তারকা কোয়েল মল্লিক (রুক্মিণী মল্লিক)। বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিয়ে গেরুয়া ইনিংসে পা রাখলেন তিনি। গতকালই (রবিবার) দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছিল, আর আজই খাতায়-কলমে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিধানসভায় নিজের মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন অভিনেত্রী।বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের নতুন সরকারের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে এক অত্যন্ত ইতিবাচক ও কড়া বার্তা দেন রঞ্জিত-কন্যা।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোয়েল মল্লিক বলেন, “বিগত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের এক নতুন যাত্রা চলছে, যা দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
টলিউডে কাজের অভাব এবং সমাজমাধ্যমের নেতিবাচক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি চাই পশ্চিমবঙ্গে আরও কাজ আসুক, বাংলার মানুষ যেন আনন্দে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধু যে টক্সিসিটি দেখছি, তার মূল কারণ হলো কাজ নেই, মানুষের হাতে পর্যাপ্ত কাজের অভাব। রাজ্যে স্কুল ও ভালো শিক্ষাদানের মান বাড়াতে হবে এবং যাঁরা সুবিধাবঞ্চিত (Underprivileged), তাঁদের জন্য আমাদের খাটতে হবে।” তিনি স্পষ্ট জানান যে, মানুষের জন্য সম্পূর্ণ ইতিবাচক কাজ করা এবং দেশের সেবা করাই এখন তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

চলতি বছরের শুরুর দিকেই তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কোয়েল মল্লিক। গত ৬ এপ্রিল তিনি শপথও নেন। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গত ১৬ জুলাই তিনি উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে গিয়ে নিজের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন। সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের পর কোয়েল হলেন চতুর্থ তৃণমূল সাংসদ, যিনি ইস্তফা দেওয়ার পর এবার সরাসরি বিজেপির টিকিটে সংসদে যাচ্ছেন।আগামী ১৬ অক্টোবর হতে চলা রাজ্যসভা উপনির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় কোয়েলের জয় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হলেও কোয়েল নিজের শালীনতা বজায় রেখেছেন। অতীতে অন্য দলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কি না—এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনোদিন কাউকে নিয়ে কোনো খারাপ মন্তব্য করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না। মানুষের সেবা করার ধর্ম পালন করার জন্য রাজ্যসভার মতো একটা বড় প্ল্যাটফর্ম পাওয়াটা অত্যন্ত সম্মানের ও দায়িত্বের।” নতুন সরকারের এই মেগা রাজনৈতিক চাল এবং কোয়েল মল্লিকের এই রাজকীয় পদার্পণ পশ্চিমবঙ্গের বিনোদন জগত ও রাজনীতিকে কোন নতুন মোড়ে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।