প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসকদের কর্মসংস্কৃতি নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। দুর্গাপুজো থেকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত চিকিৎসকদের টানা ছুটি নেওয়ার দীর্ঘদিনের ‘কালচার’ বা রেওয়াজকে এবার পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণা করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। গতকাল স্বাস্থ্য ভবনে সমস্ত সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপারদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকের পর এই বিরাট ঘোষণা করেন তিনি।সাম্প্রতিক চোরবাগান পুজো মণ্ডপের দুর্ঘটনার পর এবং উৎসবের মরসুমে সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের গরহাজির থাকার বিষয়টি সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এরপরই কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী বছর থেকে পুজোর সময় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ক্ষোভের সুরে বলেন, “স্বাস্থ্য দফতর অন্য কোনও সাধারণ দফতরের মতো নয়, এটি একটি জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্র। এখানে মানুষকে সপ্তাহে ৭ দিন, ২৪ ঘণ্টাই পরিষেবা দিতে হবে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে এ রাজ্যে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত একটা টানা ছুটি-ছুটি ভাব চলে আসছে। এই কালচার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আর চলবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রত্যেক চিকিৎসকই নিজেদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন। দায়বদ্ধতা না বুঝলে, তিনি ডাক্তার নন।” মন্ত্রী জানান, চিকিৎসকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কাল থেকেই পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে।

চলতি বছরের গাফিলতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী বছরের জন্য এখনই কঠোর গাইডলাইন বেঁধে দিয়েছে স্বাস্থ্য ভবন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন: আগামী বছর থেকে ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত এই দীর্ঘ ছুটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে। তার বদলে শুধু পুজোর ৪ দিন (সপ্তমী থেকে দশমী) নিয়ে একটি ‘স্পেশাল রোস্টার’ বা ডিউটি তালিকা তৈরি হবে। এই ৪ দিন হাসপাতালের নন-মেডিক্যাল বা অ-চিকিৎসক কর্মীদের উপস্থিতি অর্ধেক (৫০ শতাংশ) রাখা হলেও, ডাক্তার ও নার্সদের ক্ষেত্রে কোনও বাঁধাধরা অগ্রিম ছুটির রোস্টার থাকবে না। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে উপস্থিত থাকতেই হবে।

বৈঠকে জেলা ও কলকাতার হাসপাতালগুলিতে জুনিয়ার ডাক্তারদের একাংশের বিরুদ্ধে ডিউটি ফাঁকি দেওয়া সংক্রান্ত মারাত্মক অভিযোগ নিয়েও সরব হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতাল গুলির প্রশাসনিক প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপারদের শিরদাঁড়া সোজা রেখে প্রশাসন চালাতে হবে। কঠোরভাবে হাসপাতালের রাশ হাতে না নিতে পারলে তাঁদের ওই পদে থাকার কোনও যোগ্যতা নেই বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে বিশ্বমানের করে তুলতে বর্তমান সরকারের এই অনড় মনোভাব এবং চিকিৎসকদের ছুটি কাটছাঁটের এই নির্দেশিকা নিশ্চিতভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।