প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় সই জালিয়াতির একটি মামলার তদন্তে আজই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছে রাজ্য সিআইডি (CID)। গত দু’বার হাজিরা এড়ানোর পর গতকাল বিকেলে সরাসরি কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে তৃতীয় নোটিস ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সময় চাওয়ার কোনো আর্জি এবার গ্রাহ্য করা হচ্ছে না; আজ ৯ জুন, বিকেল ৫টার মধ্যেই ভবানীভবনের সদর দফতরে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে। এদিকে গত শনিবার থেকেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে দেশের রাজধানী নতুন দিল্লিতে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে বিকেল ৫টার ডেডলাইনকে সামনে রেখে আজ তিনি কী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন? রাজনৈতিক ও আইনি মহলে এখন এটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক ও কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁর কলকাতায় ফিরে সশরীরে ভবানীভবনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। সিআইডি-র কড়া নির্দেশের জবাবে অভিষেকের আইনি প্রতিনিধিরা আজ বিকেলের মধ্যেই তদন্তকারীদের একটি ইমেল বা চিঠি পাঠাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে তাঁর দিল্লির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে সশরীরে উপস্থিত না থাকার কারণ সরকারিভাবে জানানো হচ্ছে।
সূত্রের খবর, তদন্তে অসহযোগিতার তকমা এড়াতে অভিষেকের টিম সিআইডি-কে ভিডিও কনফারেন্স বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আজই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার একটি বিকল্প প্রস্তাব দিতে পারে। আগামীকাল, ১০ জুন (বুধবার) কলকাতা হাইকোর্টে এই সই জালিয়াতি মামলার শুনানি রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিষেকের মূল কৌশল হলো আজ বিকেল ৫ টার সময়সীমা পার করে আগামীকাল আদালতের কাছ থেকে সিআইডি-র কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইনি রক্ষাকবচ আদায় করা।
বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার একটি চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে।গোয়েন্দাদের দাবি, ওই বিতর্কিত ও জালিয়াতি করা চিঠির কভারিং লেটারে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। এই কারণেই তাঁর বয়ান রেকর্ড করা তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সিআইডি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিআইডি-র এই অতি-তৎপরতাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের বক্তব্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার জন্যই বারবার এই নোটিস পাঠানো হচ্ছে। তিনি আইন মেনে চলেন এবং তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, তবে রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আদালতের বিচারাধীন বিষয়কে সম্মান জানিয়েই তাঁর আইনি টিম নিয়মতান্ত্রিকভাবে এর জবাব দিচ্ছে।
যেহেতু এটি সিআইডি-র দেওয়া তৃতীয় নোটিস, তাই আজ তিনি হাজিরা না দিলে তাঁর অনুপস্থিতি সরকারি ডায়েরিতে নথিবদ্ধ করা হবে। আইনি মহল মনে করছে, অভিষেক আজ না এলে সিআইডি আগামীকাল হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে সওয়াল করতে পারে যে, তদন্তে সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এর ওপর ভিত্তি করে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি চাইতে পারে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা।