প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার অলিন্দে আজ আর সেই চেনা দাপট নেই। মহাকরণ থেকে নবান্ন—রাজদণ্ড আজ অন্য হাতে। কিন্তু ক্ষমতার চড়া আলো সরে গেলেও কি অতীতের ছায়া এত সহজে পিছু ছাড়ে? নাকি পাপ-পুণ্যের হিসাব মেলাতে নিয়তি ঠিক দরজায় এসে কড়া নাড়ে? আজ বিকেলে তিলোত্তমা সাক্ষী থাকল ঠিক তেমনই এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক ড্রামার। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে সোজা পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। বিকেল গড়াতেই আইনি সমন হাতে ইডি আধিকারিকদের গাড়ি যখন কালীঘাটের ‘শান্তিনিকেতন’ ভবনের সামনে এসে দাঁড়াল, তখন চারপাশের চেনা রাজনৈতিক কোলাহল উধাও। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, বিগত জমানার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলার তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই আগামী ১৫ জুনের মধ্যে তাঁকে দিল্লির ইডি দপ্তরে সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য এই চূড়ান্ত নোটিশ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, রাজপাট হারানোর পর এই আইনি তৎপরতা কি শুধুই তদন্তের স্বাভাবিক গতি? নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো সমীকরণ?
ইডি যখন দরজায় কড়া নাড়ল, তখন ঘরে ছিলেন না ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রাজনৈতিক মহল সূত্রে খবর, ঠিক সেই মুহূর্তেই তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ছিলেন। তবে কি ইডি-র জুতোজোড়ার শব্দ পেতেই এই সাময়িক দূরত্ব? উঠছে প্রশ্ন। মূল নেতা সামনে না থাকায় ইডি-র দুঁদে আধিকারিকরা অবশ্য বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি। আইনি প্রোটোকল মেনে বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীদের হাতেই ১৫ জুনের হাজিরার কড়া সমন হস্তান্তর করে আসেন তাঁরা। শুধু দিল্লির ইডি-ই নয়, এদিকে বিধায়কদের জাল সই-কাণ্ডের তদন্তে রাজ্যের সিআইডি (CID)-ও আগামী ৮ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে তলব করেছে। একদিকে রাজ্য আর অন্যদিকে কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থা—চারদিক থেকে যেভাবে আইনি ঘেরাটোপ তৈরি হচ্ছে, তাতে প্রাক্তন শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি যে বহুগুণ বাড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিজেপি তথা বর্তমান শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে কেবল একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন উপহার দেওয়ার জন্য। আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। যারা অতীতে বাংলার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে বলে অভিযোগ, তদন্তের মাধ্যমে তাদের সত্য সামনে আসুক।” পাল্টা সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবিরও। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই এই তৎপরতা বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আদালত তো অন্য কথা বলছে। লাখ লাখ ওএমআর শিট জালিয়াতি আর যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের চোখের জলের হিসাব কি তবে এবার কড়ায়-গণ্ডায় মিলবে? ক্ষমতা হারানোর পর সিংহাসনহীন সেনাপতির সামনে এখন মাত্র বারোটা দিন। আগামী ১৫ জুন তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হয়ে আইনের মুখোমুখি হন, নাকি আইনি রক্ষাকবচের খোঁজে আদালতের অলিন্দে দৌড়বেন—এখন সেটাই দেখার।