প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে জেলবন্দি তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সওকত মোল্লাকে নিয়ে এবার বাংলার রাজনীতিতে আছড়ে পড়ল এক চরম সুনামি! সওকতের শিক্ষাগত যোগ্যতা আসলে একটি বিশাল ‘প্রতারণা চক্রের’ অংশ—এই মারাত্মক অভিযোগ তুলে খোদ বারুইপুর পুলিশ সুপারের (SP) দফতরে ও জীবনতলা থানায় লিখিত এফআইআর দায়ের করলেন হেভিওয়েট বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। আর এই অভিযোগ ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে, কারণ বিজেপির তির এবার সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে!

বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের বিস্ফোরক দাবি, তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা বড় জোর পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। অথচ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় সওকত নিজেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর (MA) বলে দাবি করেছেন! অভিযোগের তির ছুড়ে বিজেপি নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, সওকত মোল্লা তাঁর হলফনামায় দেখিয়েছেন যে তিনি ২০১৮ সালে রাজস্থানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ছাত্র (Regular Student) হিসেবে স্নাতক (BA) পাশ করেছেন। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে যিনি বাংলার বিধায়ক হিসেবে ২৪ ঘণ্টা ক্যানিং ও ভাঙড়ে ঘুরছেন, তিনি কীভাবে রাজস্থানে গিয়ে রোজ কলেজে ক্লাস করলেন? তিনি কি রোজ বিমানে চেপে রাজস্থানে যেতেন?

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের জল গড়িয়েছে আরও গভীরে। বিজেপি নেতার দাবি, এটি শুধুমাত্র সওকত মোল্লার ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়। এর পেছনে কাজ করছে একটি বিরাট আন্তঃরাজ্য জাল শংসাপত্র চক্র (Fake Certificate Racket)। আর এই চক্রের সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায় এবং আয়ন ঘোষ দস্তিদারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের গভীর যোগসাজশ রয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ভাঙড়ে আইএসএফ (ISF) কর্মীদের ওপর হামলা, ধর্ষণ মামলা এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত জুন মাসেই সওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় এজেন্সির হেফাজতে জেলের অন্ধকূপেই দিন কাটাচ্ছেন। তার মধ্যেই এই ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নতুন আইনি খাঁড়া তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিল।

বারুইপুর পুলিশ জেলা সূত্রের খবর, এই হাই-প্রোফাইল অভিযোগের ভিত্তিতে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে দিয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যেহেতু এই জালিয়াতির জাল রাজস্থান থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই পুলিশ নয়—অবিলম্বে সিবিআই (CBI) দিয়ে এই আন্তর্জাতিক ডিগ্রি চক্রের পর্দাফাঁস করতে হবে। সব মিলিয়ে, সওকতের শিক্ষাগত ডিগ্রির এই ‘ফেক রহস্য’ এখন নবান্ন থেকে শুরু করে আলিপুরের অলিতে-গলিতে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।