প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলার রাজনৈতিক মহাকাশে উল্কাপাতের গতিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ। তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি ফাটল এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। তবে এবার যে ধামাকাটি ঘটল, তা একপ্রকার কল্পনাতীত! দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের টালমাটাল পর্ব কাটিয়ে এবং গত মাসে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তৃণমূলের সব সাংগঠনিক পদ ছাড়ার পর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একসময়ের চরম বিশ্বস্ত তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (বালু) সোজা গিয়ে ভিড়লেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে। আর এই নয়া শিবিরে যোগদানের রেশ কাটতে না কাটতেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নামে এমন জয়ধ্বনি দিলেন বালু, যা শুনে চোখ চড়কগাছ রাজনৈতিক মহলের!

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক সব মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মমতা শিবিরের সাথে দূরত্ব বাড়িয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল তৃণমূল’ (National Working Committee) শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। আর সেখান থেকেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় একেবারে গদগদ জ্যোতিপ্রিয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, এটা আমাদের অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমাদের তো ওনাকে দেখে গর্ব হয়!” এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দুকে তিনি নিজের সমসাময়িক রাজনীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুখ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “আমাদের প্রজন্মের নেতা শুভেন্দু অধিকারী।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে এসেও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দাবি, তিনি দল ছাড়েননি। তাঁর কথায়, “আমি তো অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসেই রয়েছি। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় খুব ভালো কাজ করছেন, আবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও দুর্দান্ত কাজ করছেন। তাঁদের এই কাজকে আমাদের সকলের সহযোগিতা করা উচিত।” এমনকি তাঁর বাড়ির পরিচারক-পরিচারিকারাও নাকি ইদানীং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের গুণগান গাইছেন, এমনটাই দাবি প্রাক্তন মন্ত্রীর!

রেশন দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়া থেকে শুরু করে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে হাবড়া থেকে ভরাডুবি— জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের রাজনৈতিক কেরিয়ারে গত কয়েক বছর ধরে একের পর এক বিপর্যয় নেমে এসেছে। একটা সময় জেল খেটে আসার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলাতেই জ্যোতিপ্রিয় যেভাবে ভোলবদল করে শুভেন্দু অধিকারীর বন্দনা শুরু করলেন, তা নিয়ে আলিমুদ্দিন থেকে কালীঘাট— সর্বত্রই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ২১শে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের আগে ঋতব্রত শিবিরে একের পর এক হেভিওয়েটের যোগদান এবং তাঁদের মুখে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা শাসক ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণকে সম্পূর্ণ এক নতুন খাদের কিনারে এনে দাঁড় করিয়েছে। এখন দেখার, বালুর এই ‘গর্ব’ প্রকাশের পর মমতা শিবিরের তরফ থেকে পাল্টা কী তোপ দেগে দেওয়া হয়।