প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিহারের রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ওলটপালট ঘটে গেল। পটনার কায়স্থ-প্রধান এবং বিজেপির সবচেয়ে মজবুত দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিশাল জয় হাসিল করলেন জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর। গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) এই আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। সোমবার (৩ আগস্ট) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ৩২ রাউন্ড ভোটগণনা শেষে প্রশান্ত কিশোরকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নিজের জীবনের প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেই খোদ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছেড়ে যাওয়া আসনে থাবা বসালেন এই প্রাক্তন ভোটকুশলী।ভোটের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিসংখ্যান (নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত)ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুর উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিম্নরূপ। বিজয়ী প্রার্থী: প্রশান্ত কিশোর (জন সুরাজ পার্টি) — প্রাপ্ত ভোট: ৬৪,১৫১ (৪৯.২৩%)।নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: নীরজ কুমার সিনহা (বিজেপি) — প্রাপ্ত ভোট: ৪৪,৮২৭ (৩৪.৪%)। তৃতীয় স্থান: রেখা কুমারী (আরজেডি) — প্রাপ্ত ভোট: ১৪,২৭৩ (১০.৯৫%)। প্রশান্ত কিশোর ঠিক ১৯,৩২৪ ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন।

১৯৯৫ সাল থেকে গত ৩১ বছর ধরে বাঁকিপুর (পূর্বতন পটনা পশ্চিম) আসনটি ছিল বিজেপির অবিসংবাদিত গড়। এখান থেকে টানা ৫ বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন নীতীন নবীন। তিনি রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি খালি হয়। সেই আসনেই বিজেপিকে দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিলেন পিকে। ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৮টি আসনে লড়াই করলেও একটিতেও খাতা খুলতে পারেনি জন সুরাজ পার্টি। কিন্তু মাত্র কয়েকমাসের ব্যবধানে এই উপনির্বাচনে জয় দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন সঞ্জীবনী এনে দিয়েছে। এবার বাঁকিপুরে মাত্র ৩৪.৩% ভোট পড়েছিল। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা ছিল, কম ভোট পড়লে ক্যাডার-ভিত্তিক দল হিসেবে বিজেপি সুবিধা পাবে। কিন্তু সমস্ত হিসেব উল্টে দিয়ে শুরু থেকে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত লিড বজায় রাখেন প্রশান্ত কিশোর।

বিজয় শংসাপত্র হাতে নিয়ে প্রশান্ত কিশোর বিহারের নীতিশ কুমার ও জোট সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমার মূল লক্ষ্য বিহারের যুবকদের কর্মসংস্থানের অভাব মেটানো। রাজ্য থেকে মেধা ও শ্রমের পরিযান (Migration) বন্ধ করতে হবে”। অন্যদিকে, পরাজয় স্বীকার করে বিহার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সরাওগি জানান, “গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই শেষ কথা। আমরা ইভিএম (EVM) বা নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেব না, বরং অন্তরীক্ষণে বসে খতিয়ে দেখব কোথায় খামতি ছিল”।