প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিল বাংলার রাজনীতি। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে বিধানসভায় পৌঁছে সরাসরি বিদ্রোহী শিবিরের নেতা তথা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে বৈঠক করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এই নেত্রীর হঠাৎ বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ এবং সেখানে উপস্থিত থাকা ফিরহাদ হাকিম ও অরূপ বিশ্বাসদের মতো মমতাত্যাগী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক ক্ষমতার লড়াই ও বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনের নিয়ন্ত্রণ ঋতব্রত শিবিরের হাতে চলে যাওয়ার পর, চন্দ্রিমার ওপর যে দোষারোপ করা হচ্ছিল, তার অভিমানেই এই চরম সিদ্ধান্ত। নিজের আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ব্যথিত হয়ে আজ তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীর পদসহ সমস্ত দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। আজ বিধানসভায় ঢোকার সময় চন্দ্রিমার সঙ্গে ছিলেন তাঁর পুত্র সৌরভ বসু এবং বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম বিধায়ক সন্দীপন সাহা। সোজা বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে তাঁর বসা নিশ্চিতভাবেই একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা।

যদিও বিধানসভা থেকে বেরোনোর সময় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন যে, তিনি কিছু নথি জমা দিতে এসেছিলেন এবং কোনো বিশেষ শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বা মমতা শিবির ছেড়ে চন্দ্রিমার এই পদক্ষেপ কার্যত ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ারই শামিল।