প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গত ৩ জুন যখন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ক্যামেরার সামনে এসে প্রথমবার স্বীকার করতে বাধ্য হলেন যে— ‘ববি হাকিম পদত্যাগ করতে চাইছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে সম্মতি দিয়েছেন’— তখন চারদিকে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। সমস্ত সংবাদমাধ্যম যখন ধোঁয়াশায়, আমরা খবরের ভেতরে ঢুকে পাঠকদের জানিয়েছিলাম, ববি হাকিমের বিদায় ঘণ্টা বাজা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা! কিন্তু লালবাতির মোহ আর ক্ষমতার মায়া কি এত সহজে ছাড়া যায়? তাই ৩ তারিখের সেই সবুজ সংকেত মেলার পরও গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে চলল চরম নাটক আর টালবাহানা। ববি বাবু নিজে সংবাদমাধ্যমের সামনে ধোঁয়াশা বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে সব নাটক আর চেয়ার বাঁচানোর কানামাছি খেলা শেষ হচ্ছে আজই। তাজা খবর— আজই পুরসভায় শেষ দিন ফিরহাদ হাকিমের এবং আর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুর কমিশনারের টেবিলে তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র জমা পড়তে চলেছে!

কুণাল ঘোষ প্রেসের সামনে এসে সাফাই গেয়েছিলেন যে, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আবহে পুরসভাকে নাকি ‘অচল’ (defunct) করে দেওয়া হয়েছে, তাই ববি বাবু ‘সম্মানজনক বিদায়’ চান। রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র প্রশ্ন— এতদিন যেভাবে পুরসভার চাকা চলত, আজ রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া বইতেই অমনি পুরসভা অচল হয়ে গেল? ৩ তারিখে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্মতি মেলার পরেও কেন ইস্তফাপত্র পকেটে নিয়ে দু’দিন ঘুরে বেড়ালেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা কি ক্ষমতার অলিন্দে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং কর্তৃত্ব বজায় রাখার শেষ কোনো দরকষাকষি ছিল?

গত পরশু কলকাতার মেয়রের ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশের পর গতকালই (৪ জুন) বিধাননগর পুরনিগমের মেয়রও পদত্যাগ করেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঐতিহাসিক ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যের প্রধান প্রধান পুরসভাগুলোতে যে প্রশাসনিক সংকট তৈরি হবে, তা আমাদের প্রতিবেদনে আগেই স্পষ্ট করা হয়েছিল। চারদিক থেকে যখন রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা চেপে ধরছে, তখন মেয়রের চেয়ারটা আসলে জ্বলন্ত উনুন হয়ে উঠেছিল!

ববি বাবু— কুণাল ঘোষের স্বীকারোক্তির পর ইস্তফা জমা দিতে যে দু’দিন সময় নষ্ট করলেন, তাতে কি রাজনৈতিক ব্যর্থতার দায় এড়ানো গেল? কলকাতার রাজপথ দেখেছে বিভিন্ন সময়ে বেআইনি বহুতল ভেঙে পড়ার মতো ভয়াবহ নাগরিক বিপর্যয়। আজ যখন চারদিক থেকে পুরসভার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তখন মেয়র পদ থেকে বিদায় নিয়ে কি জবাবদিহি থেকে রেহাই পাওয়া যায়? খবর আমরা দু’দিন আগেই দিয়েছিলাম, আজ শুধু আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়তে চলেছে।