প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আপনি দেখছেন। আমিও দেখছি। আর দেখছে সর্বস্বান্ত হওয়া গোটা পশ্চিমবঙ্গ। প্রশ্নটা কোনো বিশেষ দলের নয়, প্রশ্নটা নৈতিকতার। প্রশ্নটা রুচির। যখন প্রকাশ্য রাজনৈতিক তরজায় একে অপরকে আক্রমণ করতে গিয়ে ‘বালিশ চাটা মাল’-এর মতো শব্দবন্ধ উঠে আসে, তখন বুঝতে হবে—পতনটা শুধু কোনো ব্যক্তির নয়, পতনটা রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও! ক্ষমতার সমীকরণ ঠিকঠাক না মিললেই যে তথাকথিত আদর্শ তাসের ঘরের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে যেতে পারে, গতকাল বিধানসভার ঘটনা কি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে? ৬০ জনের কাছাকাছি বিধায়ককে সাথে নিয়ে, রাতারাতি স্পিকারের ঘরে গিয়ে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন এবং নতুন বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের দাবি—রাজনৈতিক মহলে এখন সবথেকে বড় চর্চার বিষয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, এ কি কোনো নীতি বা আদর্শের লড়াই? নাকি ক্ষমতার অলিন্দে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরির আদিম আস্ফালন? ক্ষমতা হারানোর পরেও যাদের দাপট কমেনি, সেই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ যেভাবে তাঁরই প্রাক্তন সতীর্থকে ‘বালিশ চাটা মাল… মাথায় তোলাই ভুল হয়েছিল’ বলে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। আজ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। খবরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সেই রাজনৈতিক সত্যটা এবার একটু দেখে নেওয়া যাক।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাদের নেতৃত্বে যে নতুন ব্লকের দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক মহলে তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিধানসভায় সইয়ের তাড়া নিয়ে গিয়ে স্পিকারের কাছে বিরোধী দলনেতার যে দাবি জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। সমালোচকদের প্রশ্ন, যখন এই দল ক্ষমতায় ছিল, তখন আপনাদের এই তথাকথিত ‘বিবেক’ কোথায় ছিল? ক্ষমতার অলিন্দে যখন টান পড়ল, অমনি রাতারাতি আপনারা নতুন বিরোধী দলনেতা বেছে নিলেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এ আসলে জনমতের সাথে এক ধরণের সুবিধাবাদী রাজনীতি। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ মহাশয় যেভাবে সরব হয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। একদা বামপন্থী দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া যে নেতাকে একদিন সসম্মানে দলে টেনে মাথায় তুলে রাখা হয়েছিল, আজ স্বার্থের সংঘাত বাঁধতেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘বালিশ চাটা মাল’-এর মতো সস্তা ভাষা কেন প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। সমালোচকদের দাবি, কুৎসিত আক্রমণ করে কেউ নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পারেন না। যাকে এতদিন আড়াল করে রাখা হয়েছিল, আজ তাঁর বিরুদ্ধেই সরব হওয়া আসলে নিজেদের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তের ভুলকেই প্রমাণ করে।

এই কুরুচিকর কাদা ছোড়াছুড়ি এবং বিধানসভার নজিরবিহীন পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। পদ্ম শিবিরের স্পষ্ট অভিযোগ, এই ঘটনা প্রমাণ করে তৃণমূলের অন্দরের ভিত কতটা ঠুনকো আর আলগা। বিজেপির দাবি, এটি কোনো আদর্শগত দল নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থ ও ভাগাভাগির একটি মঞ্চ মাত্র। যখনই সেই ভাগাভাগির অঙ্কে গরমিল হচ্ছে, তখনই আসল রূপটা রাস্তায় চলে আসছে।বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি আর গণতন্ত্রকে যারা প্রতিদিন ধুলোয় মেশাচ্ছে, বাংলার মানুষ কিন্তু সব দেখছে। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরেও এদের এই পারস্পরিক কদর্য সুবিধাবাদী রাজনীতিকে যে সাধারণ মানুষ চিরতরে প্রত্যাখ্যান করবে, তা বলাই বাহুল্য। সময় কিন্তু সব মনে রাখে।