প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন হারিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর, আজ প্রথমবার কলকাতার রাজপথে নামছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ধর্মতলার ওয়াই-চ্যানেলে শুরু হতে চলেছে তৃণমূলের এই ধরনা কর্মসূচি। তবে কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগের মুহূর্তেই রানি রাসমণি রোডের অনুমতি না মেলায় বড় প্রশাসনিক ধাক্কা খেল ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, একদা ক্ষমতার শীর্ষে থাকা দলটির এই আকস্মিক রূপান্তর এবং প্রথম দিনেই পিছু হঠা সমসাময়িক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অতীতে যে ধর্মতলা চত্বরে তৃণমূল নিজেদের একচ্ছত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে অভ্যস্ত ছিল, আজ সেখানেই কড়া নিয়মের বেড়াজালে পড়তে হলো তাদের। রানি রাসমণি রোডে সকাল থেকে দীর্ঘ মেগা ধরনার যে ছক কষেছিল তৃণমূল, প্রশাসন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে তা সোজা নাকচ করে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি প্রদর্শনের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায়, শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য ওয়াই-চ্যানেলে (Y-Channel) প্রতীকী কর্মসূচীর অনুমতি মিলেছে। বর্তমান শাসক দল বিজেপির দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় রাজদণ্ড যে এখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং বাংলায় যে আইনের শাসন ফিরে এসেছে, এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন অত্যন্ত তৎপর।

গত ৩০ মে সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘বিরোধী চক্রান্ত’ বলে দাবি করছে তৃণমূল। তবে রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের পাল্টা দাবি, এটি কোনো পরিকল্পিত রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের ক্ষুব্ধ কর্মীদের নিজেদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও টিকিট বণ্টনের কোন্দলেরই বহিঃপ্রকাশ। কালীঘাটের অতি সাম্প্রতিক সাংগঠনিক বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়কের গরহাজির থাকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরে যখন ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য—”দলের কেউ না এলে তিনি একাই ধরনায় বসবেন”—তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক দুর্বলতা ও একাকীত্বকেই সর্বসমক্ষে নিয়ে এসেছে বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।

যে সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের শীর্ষ নেতারা ধর্মতলার রাস্তায় বসে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রমাণের মরিয়া চেষ্টায় ব্যস্ত হতে চলেছেন, ঠিক সেই সময়েই সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা যাচ্ছে রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক মহলে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার আজ সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে এবং তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ব্যস্ত। রাজনৈতিক সমীক্ষকদের মতে, বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এখন আর রাস্তা অবরোধ বা ধরনার নেতিবাচক রাজনীতি পছন্দ করছেন না। ভোটাররা উন্নয়নের রাজনীতি ও ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুশাসনকে বেছে নিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আর কিছুক্ষণের মধ্যে শুরু হতে চলা এই সংক্ষিপ্ত ধরনা মঞ্চ তৃণমূলের নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর নাটক নাকি দলটির চূড়ান্ত রাজনৈতিক অবসানের অফিশিয়াল কাউন্টডাউন, তার উত্তর ভবিষ্যৎই দেবে।