প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পরেই কি রাজপথের রাজনীতিতে খেই হারিয়ে ফেলছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? নাকি সস্তা লাইমলাইটের খোঁজে এমন এক আন্তর্জাতিক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে বসলেন, যা দেশের সুরক্ষাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল? ওপার বাংলার এক চরমপন্থী নেতার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলার অভিযোগে এবার বড়সড় আইনি প্যাঁচে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে একটি বিস্ফোরক এফআইআর (FIR)। অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর—উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের চেষ্টা!

গত ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি রোডের প্রতিবাদ সভা। নবান্নের ১৪ তলার দাপট এখন অতীত, তাই হয়তো বিরোধী মঞ্চে দাঁড়িয়েই ঝাঁঝালো হতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ওপারে বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড এবং এপারে রাজ্য পুলিশের ‘স্পেশাল টাস্ক ফোর্স’ (STF)-এর হাতে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারের ঘটনা—এই দুই ভিন্ন বিষয়কে এক সুতোয় বেঁধে তিনি সরাসরি আঙুল তোলেন দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে। দায়ের হওয়া এফআইআর-এর অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দাবি করেন—এই হত্যাকাণ্ড নাকি দিল্লির পরিকল্পিত চিত্রনাট্য! থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে ঠিক কী বলা হয়েছে? শিলিগুড়ির আইনজীবী রিন্কি সেন চ্যাটার্জির দায়ের করা এই এফআইআর-এর কপি অনুযায়ী, মূলত তিনটি মারাত্মক অভিযোগ বা নালিশ তোলা হয়েছে, যা আইনিভাবে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অভিযোগকারীর দাবি, দেশের একজন প্রাক্তন প্রশাসনিক প্রধান হয়েও ওপার বাংলার এক চরমপন্থীর মৃত্যুকে ঢাল বানিয়ে নিজের দেশের সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে বিষ ছড়ানো হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

এফআইআর-এ স্পষ্ট অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই ধরণের দায়িত্বহীন এবং উস্কানিমূলক বক্তব্যের জেরে ওপার বাংলায় বসবাসকারী সংখ্যালঘু সনাতনীদের (হিন্দুদের) নিরাপত্তা চরম সংকটে পড়তে পারে। ভোটের রাজনীতির জন্য কি তাঁদের জীবন বাজি রাখা যায়? উঠছে সেই প্রশ্ন। সাংবিধানিক পদে বসার সময় দেশের সুরক্ষাজনিত যে গোপনীয়তা বজায় রাখার শপথ তিনি নিয়েছিলেন, ক্ষমতা চলে যেতেই নিজের স্বার্থে কি সেই সুরক্ষাবলয় ভেঙে তথ্য ফাঁসের চেষ্টা করলেন তিনি? এমনটাই নালিশ জানানো হয়েছে এজাহারে।

রাজনৈতিক এবং জাতীয়তাবাদী মহলের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ—দীর্ঘ দেড় দশকের ক্ষমতা হারানোর পর এখন চরম রাজনৈতিক দেউলিয়াপনায় ভুগছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বিজেপি ঘনিষ্ঠ শিবিরের দাবি, যে দলের জমানায় বাংলায় দুর্নীতি বাসা বেঁধেছিল, তারা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন দেশবিরোধী শক্তি এবং ওপার বাংলার মৌলবাদীদের অক্সিজেন জোগাতেও দ্বিধা করছে না। আইন নিজের পথেই চলবে, পুলিশও ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। নিজের তরফ থেকে কাউকে অপরাধী না বললেও, থানার এজাহার কিন্তু স্পষ্ট কথা বলছে। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরও যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে ছিনিমিনি খেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তার বিচার কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। এবার দেখার, এই আইনি প্যাঁচে পড়ার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারালো মুখের ভাষা কতটা নরম হয়! নজর থাকবে পরবর্তী আইনি আপডেটে।