প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সমস্ত রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য নজির তৈরি হলো আজ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সর্বসম্মতভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন স্পিকার (অধ্যক্ষ) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু।

আজ বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে সর্বসম্মতভাবে স্পিকার নির্বাচিত হন রথীন্দ্র বসু। এরপরই সংসদীয় উচ্চ ঐতিহ্য মেনে এক বেনজির দৃশ্যের অবতারণা হয় কক্ষের ভেতরে। নবনির্বাচিত স্পিকারকে সসম্মানে তাঁর আসনে এগিয়ে নিয়ে যেতে একসঙ্গে এগিয়ে আসেন শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরের প্রধান কাণ্ডারিরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়—দুজনে যৌথভাবে নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বসুর হাত ধরে তাঁকে স্পিকারের নির্দিষ্ট আসনে নিয়ে গিয়ে বসান। বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এই ছবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর তাঁকে হাউসের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান বিদায়ী স্পিকার তথা প্রবীণ বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে গণতন্ত্রের সুস্থ পরিবেশ বজায় রেখে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করাও টেবিল চাপড়ে ও করতালির মাধ্যমে নয়া স্পিকারকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এই পদের জন্য কোনো প্রার্থী খাড়া না করায় রথীন্দ্র বসুর এই নির্বাচন সম্পূর্ণ মসৃণ ও সর্বসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গের কোনো ভূমিপুত্র পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের মতো উচ্চ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পেলেন। শুধু তাই নয়, বিগত কয়েক দশক ধরে স্পিকার পদে সাধারণত কোনো আইনজীবী বা আইনজ্ঞকে বসানোর যে প্রথা বাংলায় চলে আসছিল, পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) রথীন্দ্র বসু স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় সেই দীর্ঘদিনের ট্র্যাডিশনেও এক বড়সড় বদল এলো।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসক ও বিরোধী দলের এই যৌথ সৌজন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে রাজ্য আইনসভার পরিচালনায় দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এক নতুন, সুস্থ এবং ভারসাম্যপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।