প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক এবং নজিরবিহীন পরিবর্তনের জোরদার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। অবশেষে সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বহাল থাকা বিতর্কিত ‘নো-ডিটেনশন পলিসি’ বা পাশ-ফেলহীন জমানার অবসান ঘটতে চলেছে। পড়াশোনার মানোন্নয়ন ও পড়ুয়াদের ভিত শক্ত করতে এবার পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই পুনরায় পাশ-ফেল প্রথা চালু করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে চূড়ান্ত প্রস্তাব পাঠাতে চলেছে স্কুল সিলেবাস কমিটি। দুর্গাপুজোর ছুটি কাটতেই বিকাশ ভবনের সবুজ সংকেত নিয়ে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে খবর। শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই এই মেগা অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।

এতদিন পর্যন্ত শিক্ষার অধিকার আইন মেনে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনও পড়ুয়াকে ফেল করানো যেত না। ফলস্বরূপ, নবম শ্রেণিতে উঠে পড়ুয়ারা জীবনের প্রথম বড় পাশ-ফেলের পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছিল। সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান এই ব্যবস্থার মারাত্মক ত্রুটি তুলে ধরে জানান, নিচু ক্লাসে পাশ-ফেল না থাকায় পড়ুয়াদের ভিত একদমই পোক্ত হচ্ছে না। নবম বা দশম শ্রেণির মতো উঁচু ক্লাসে পৌঁছে তারা পড়ালেখার মান আর ধরে রাখতে পারছে না। এমনকি বিভিন্ন সর্বভারতীয় শিক্ষামূলক রিপোর্টেও উঠে এসেছে যে, অষ্টম শ্রেণির বহু পড়ুয়া সাধারণ যোগ-বিয়োগ-গুণ-ভাগ করতে পারছে না কিংবা পঞ্চম শ্রেণির বই রিডিং পর্যন্ত পড়তে পারছে না। এই চরম শিক্ষাগত অবক্ষয় রুখতেই বাধ্যতামূলকভাবে প্রাইমারি স্তরের পর অর্থাৎ ক্লাস ফাইভ বা সিক্স থেকেই বার্ষিক মূল্যায়নে পাশ-ফেল ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিলেবাস কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাশ-ফেল ফিরলেও পড়ুয়াদের মানসিক চাপ কমাতে এক অভিনব সুরক্ষাকবচ রাখা হচ্ছে। যদি কোনও ছাত্র বা ছাত্রী বার্ষিক পরীক্ষায় ফেল করে, তবে তাকে সরাসরি একই ক্লাসে আটকে রাখা হবে না। ফেল করা পড়ুয়াদের জন্য school স্তরেই বিশেষ বা অতিরিক্ত ক্লাস (Remedial/Additional Classes) নেওয়া হবে। অতিরিক্ত প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য পড়ুয়ারা আরও ১৫ দিন অতিরিক্ত সময় পাবে। এরপর তাদের জন্য পুনরায় একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। সেই দ্বিতীয় সুযোগেও যদি কেউ পাশ করতে না পারে, তবেই তাকে পুনরায় সেই ক্লাসে রেখে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও বিজ্ঞানসম্মত প্রস্তাব জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন সিলেবাস কমিটিকে। শিক্ষক সংগঠনগুলির একটা বড় অংশও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে পাশ-ফেল ফিরলে পড়ুয়াদের ড্রপ-আউট বা স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়বে কি না, সেই আশঙ্কার দিকটিও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। রাজ্যের নতুন পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পূর্ণ কার্যকর করার যে লক্ষ্যমাত্রা বর্তমান সরকার নিয়েছে, তার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে এই পাশ-ফেল প্রথা।