প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না, কিন্তু শেষ চালটা যে সবসময় মীরজাফর বা চাণক্যের নয়, বরং কালীঘাটের ‘দিদি’-র হাত দিয়েই বেরোয়, তা কি আজ আরও একবার প্রমাণিত হলো? বিধানসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর যে দলের অস্তিত্ব এখন কার্যত সংকটে, সেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে আজ যা ঘটল, তাকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন—’ডানা ছাঁটার এক মার্জিত অপারেশন’। যাঁর সেনাপতিত্বে দল নির্বাচনে লড়ল এবং ঐতিহাসিক পরাজয়ের স্বাদ চাখল, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে দলের অন্দরেই গত কয়েকদিন ধরে ফিসফাস, ক্ষোভ আর প্রশ্ন উঠছিল। “অভিষেকের কর্পোরেট মডেলে দল দেখলে এই হালই হতো”—এমন গুঞ্জন যখন রাজ্য রাজনীতির বাতাসে ভাসছে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ কালীঘাটের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর যে সিদ্ধান্ত সামনে এল, তাতে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি—ক্ষমতার দণ্ড এক হাত থেকে অন্য হাতে যাওয়া এত সহজ নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় খাতা-কলমে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রইলেন ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যে রাশ টানতে কোনো কসুর রাখা হলো না। তাঁর কাজের পরিধিকে ভাগ করতে বা তাঁকে ‘সহযোগিতা’ করার নামে পাশে বসিয়ে দেওয়া হলো দোলা সেন এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে। জাতীয় যুগ্ম সম্পাদক পদের এই নতুন আমদানিকে অনেকেই দেখছেন অভিষেকের ডানা ছাঁটার কৌশল হিসেবে। সুব্রত বক্সীকে সরিয়ে রাজ্য সভাপতি পদে আনা হলো চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে, যা ক্যামাক স্ট্রিটের লবিকে আরও এক দফা ব্যাকফুটে ঠেলে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশ্নটা এখানেই—যাঁর নেতৃত্বে দল ক্ষমতা হারিয়ে আজ বিরোধী আসনে বসল, তাঁর পদ খোয়া গেল না কেন? রাজনীতিতে একেই কি বলে ‘বাধ্যবাধকতা’? নাকি অভিষেককে পদে রেখে আসলে তাঁর ক্ষমতাটাকেই খর্ব করা হলো? একেই কি তবে বলে ‘মর্যাদাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’? দল পরাজিত হওয়ার পর দলেরই একাংশ যখন আড়ালে বলতে শুরু করেছে যে, অভিষেকের ‘কর্পোরেট রাজনীতি’-র কারণেই বাংলায় ঘাসফুল আজ শুকিয়ে কাঠ, তখন এই রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, পিসি বুঝিয়ে দিলেন, ভাতিজা যত বড়ই নেতা হোন না কেন, দলের রাশ থাকবে কালীঘাটের দখলেই।ক্যামাক স্ট্রিটের যুবরাজ কি এই নতুন সমীকরণ মুখ বুজে মেনে নেবেন? নাকি ক্ষমতা হারানোর পর এবার দলের অন্দরেই শুরু হবে নতুন কোনো মেরুকরণ? উত্তর দেবে সময়।