প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকার গঠিত হলেও, এখনও চূড়ান্ত হয়নি মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন। গত ১ জুন লোক ভবনে নতুন সরকারের ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন। কাকে কোন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক দেওয়া হবে, সেই জট কাটানো এবং একটি নিটোল “ড্রিম টিম” তৈরি করতেই আজ দেশের রাজধানীতে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে এক ম্যারাথন বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, দিল্লির সবুজ সংকেত মিললে আজ রাতের মধ্যেই বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রকাশ পেতে পারে বাংলার নতুন মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার প্রথম অফিশিয়াল বৈঠকের আগেই এই দফতর বণ্টনের প্রক্রিয়াটি সেরে ফেলতে চাইছে দল। আর সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি পৌঁছানোর আগেই রাজধানীতে এসে হাজির হয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলীয় বিধায়কদের অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করে কাকে কোন দফতরে বসালে প্রশাসনিক গতি বজায় থাকবে, তা নিয়ে নীতিন নবীনের সাথে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। স্বরাষ্ট্র, অর্থ, শিক্ষা কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতো হাই-প্রোফাইল দফতরগুলি কার কার ঝুলিতে যাচ্ছে, তা নিয়েই মূলত এই হাইপ্রোফাইল আলোচনা।
আগামী ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সম্ভাব্য পশ্চিমবঙ্গ সফর রয়েছে। নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন সম্পন্ন করে প্রশাসনিক কাজে ১০০ শতাংশ গতি আনা। দলীয় সূত্রে দাবি, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা আয়ুষ্মান ভারত, পিএম আবাস যোজনার মতো কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত রূপায়ণ করা এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করাই এখন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রধান অগ্রাধিকার।
অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন বিধায়কদের অনুপস্থিতি ও সাংগঠনিক সংকট তৈরি হয়েছে, তখন বিজেপি সরকার কালবিলম্ব না করে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ গুছিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে। দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আজ রাতেই মন্ত্রিত্বের তালিকা চূড়ান্ত সিলমোহর পায় কি না, এখন সেদিকেই চোখ গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।