প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজকের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক খবর— মেয়াদের আগেই কলকাতা পুরসভার মহানাগরিকের পদ ছেড়ে দিলেন ফিরহাদ হাকিম। কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় ছ’টা মাস বাকি ছিল। কিন্তু সেই মেয়াদ শেষের অপেক্ষা করার রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা ধৈর্য, কোনোটাই আর অবশিষ্ট নেই তৃণমূলের এই বিদায়ী মেয়রের। আজ ‘ছোট লালবাড়ি’র মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েই ববিবাবুর মুখে শোনা গেছে এক চরম আক্ষেপের সুর। তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করেছেন, “চেয়ার ধরে বসে রইলাম ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার… এটা মহাপুরুষদের চেয়ারের প্রতি অসম্মান করা হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। আজ যখন রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে, তৃণমূল আর এ রাজ্যের শাসক দল নয়, তখনই কি ববিবাবুর হঠাৎ মনে পড়ে গেল তাঁর ‘ঢাল-তলোয়ার’ কিচ্ছু নেই? ক্ষমতার অলিন্দে যখন দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের একক নিয়ন্ত্রণ থাকত, তখন কিন্তু এই ববি হাকিমকে একবারও এভাবে ‘নিধিরাম সর্দার’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করতে শোনা যায়নি। আজ রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তি আসতেই, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হতেই কি বিদায়ী মেয়রের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ? ববিবাবু দাবি করেছেন, তিনি নাকি ‘চেয়ারের মর্যাদা’ ধরে রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন, ছ’মাস পর পুরসভার মেয়াদ যখন এমনিতেই শেষ হতো, তখন মাঝপথে এভাবে ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়া কি আসলে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়ানো, নাকি আসন্ন জবাবদিহির ভয় থেকে এক ধরনের সেফ এক্সিট বা নিরাপদ প্রস্থান? কারণ, পুলিশ বা প্রশাসন এখন আর কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের ব্যক্তিগত আজ্ঞাবহ নয়।
একটা সময় এই ববি হাকিমই বিরোধীদের দিকে তীব্র রাজনৈতিক বাণ ছুড়তেন। আজ মেয়াদের আগেই রণে ভঙ্গ দিয়ে, ‘নিধিরাম সর্দার’ সেজে এখন রাজনৈতিক সহানুভূতির তাস খেলার যে চেষ্টা হচ্ছে, সচেতন নাগরিক সমাজ তা কতটুকু গ্রহণ করবে তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা, মেয়াদের আগে কলকাতার মেয়রের এই নাটকীয় পলায়নের পর তৃণমূলের আর ক’জন জনপ্রতিনিধি নিজেদের পিঠ বাঁচাতে ইস্তফার লাইনে দাঁড়ান।