প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আজকের আরও একটি বড় রাজনৈতিক খবর— মেয়াদের আগেই কলকাতা পুরসভার মহানাগরিকের পদ থেকে বিদায় নিলেন ফিরহাদ হাকিম। তবে এই বিদায়ের পেছনে তিনি কোনো বিদ্রোহ বা কোন্দলের কথা মানতে নারাজ। ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পরেই ববিবাবুর মুখে শোনা গেল এক বিশেষ ব্যাখ্যা। তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমি মাথা উঁচু করে চলে যেতে চেয়েছিলাম।” বিদায়বেলায় দলনেত্রীর ভূমিকা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আমার নেত্রীর কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন।” এই ‘অনুমতি’ পাওয়ার ঘটনাটিকে তিনি নিজের এক বড় প্রাপ্তি হিসেবেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র জলঘোলা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, আজ যখন রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে, তৃণমূল এ রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী আসনে বসার মুখে, ঠিক তখনই কি ববিবাবুর এই ‘মাথা উঁচু করে’ বিদায় নেওয়ার তাড়না তৈরি হলো? দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে দলনেত্রীর ছায়ায় থেকে তিনি ক্ষমতার শীর্ষে বসেছিলেন, আজ যখন দলের সেই ছাতাটাই ভেঙে পড়েছে, তখন কি দলনেত্রীর ‘অনুমতি’ নিয়ে আসলে একটি ‘নিরাপদ সেফ এক্সিট’ খুঁজলেন বিদায়ী মেয়র?

সমালোচকদের একাংশের মতে, একে ‘সম্মানের বিদায়’ বলে যতই ঢাক ঢোল পেটানো হোক না কেন, আসল সত্যিটা সাধারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার। প্রশাসনিক ক্ষমতার সেই চেনা মদত উধাও, খোদ কলকাতা পুরসভার ভেতরেই একের পর এক কাউন্সিলর আর সতীর্থরা যখন মুখ ঘোরাচ্ছেন, তখন রাজনৈতিক পিঠ বাঁচাতেই এই মরিয়া ইস্তফা। দলের এই চরম সংকটের দিনে, ছ’মাস বাকি থাকতেই এভাবে ময়দান ছেড়ে দলনেত্রীর ‘অনুমতি’র দোহাই দেওয়া কি আসলে পরাজয় স্বীকার করে এক ধরনের আত্মপক্ষ নয়?

একটা সময় এই ববি হাকিমই ছিলেন কালীঘাটের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সৈনিক। আজ ক্ষমতা হারাতেই সুর নরম করে, দলনেত্রীর অনুমতিকে ঢাল বানিয়ে তিনি যে সম্মানের তাস খেলার চেষ্টা করছেন, সচেতন নাগরিক সমাজ তা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারছে। রাজনৈতিক মহলের বর্তমান চর্চা— কলকাতার মেয়রের এই ‘অনুমতি’ পর্বের আড়ালে তৃণমূলের অন্দরে যে বড়সড় ফাটল ধরেছে, তা এবার বাকি হেভিওয়েটদের মধ্যেও কত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।