প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মেয়াদের আগেই কলকাতা পুরসভার মহানাগরিকের পদ ছেড়ে দিলেন ফিরহাদ হাকিম। তবে ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার পরেই বিদায়ী মেয়রের মুখে শোনা গেল এক বিশেষ ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ। বিদায়লগ্নে পুরসভার মহান ঐতিহ্যের দোহাই দিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি নিজে মন্তব্য করেছেন, “আমি কোনোদিন ভাবিনি যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের মতো মহাপুরুষদের বসা এই চেয়ারের যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারব।” যদিও এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন যে তিনি তাঁর দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, আজ যখন রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে, তৃণমূল এ রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়ে বিরোধী আসনে, ঠিক তখনই কি বিদায়ী মেয়রের হঠাৎ মনে পড়ে গেল এই চেয়ারের ঐতিহাসিক মর্যাদার কথা? দীর্ঘ মেয়াদে যখন কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক নাগরিক পরিষেবার বেহাল দশা নিয়ে সাধারণ মানুষ সরব হতেন, তখন কি একবারও নেতাজি বা দেশবন্ধুর এই মহান চেয়ারের ঐতিহ্যের কথা এভাবে মনে পড়েছিল? আজ রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক শক্তি আসতেই কি বিদায়ী মেয়রের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ? সমালোচকদের মতে, বিদায়বেলায় এই ধরণের মহাপুরুষদের নাম টেনে আনা আসলে এক ধরনের রাজনৈতিক আবেগ তৈরি করার চেষ্টা এবং নিজের মেয়াদের সামগ্রিক ব্যর্থতা ঢাকার মরিয়া কৌশল। আসল সত্যিটা রাজনৈতিক মহল খুব ভালো করেই বোঝে। ক্ষমতা চলে গেছে, প্রশাসনিক ক্ষমতার সেই চেনা দাপট উধাও, খোদ কলকাতা পুরসভার ভেতরেই যখন বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের হিসাব চাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে, তখন রাজনৈতিক পিঠ বাঁচাতেই এই ধরণের আবেগের তাস খেলা হচ্ছে।

ছ’মাস বাকি থাকতেই এভাবে ময়দান ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এই ‘যোগ্যতা’র তত্ত্বকে আসলে রাজনৈতিক পরাজয় স্বীকার করে এক ধরনের নিরাপদ প্রস্থান হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একটা সময় ক্ষমতার শীর্ষে থেকে যারা বিরোধীদের দিকে তীব্র রাজনৈতিক বাণ ছুড়তেন, আজ ক্ষমতা হারাতেই তাদের মুখে নেতাজি-দেশবন্ধুর ঐতিহ্যের বাণী!

বিদায়বেলায় ববি হাকিম নিজেকে যতই ‘সংশয়ী’ প্রমাণ করে সহানুভূতির আলো কাড়তে চান না কেন, সচেতন নাগরিক সমাজ তাঁর মেয়াদের আসল মূল্যায়ন ইতিমধ্যেই করে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বর্তমান চর্চা— কলকাতার মেয়রের এই ‘ঐতিহ্য’ পর্বের স্বীকারোক্তির পর তৃণমূলের আর ক’জন জনপ্রতিনিধি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বাঁচাতে ইস্তফার লাইনে দাঁড়ান।