প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই যে রাজনৈতিক ভাঙনের গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, তা এবার সরাসরি দেশের রাজধানীতে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে সূত্রের খবর। রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা, যে ‘ভাইপো’কে দলের অঘোষিত যুবরাজ বানাতে মরিয়া ছিলেন পিসি, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে এবার সপাটে খারিজ করতে চলেছেন দলেরই এক বড় অংশের সাংসদ। রাজ্য বিধানসভায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৬০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে স্পিকার রথীন্দ্র বোসের ঘরে গিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছেন বলে খবর। এবার ঠিক সেই একই ফর্মুলায়, দিল্লির বুকেও পিসি-ভাইপোর একাধিপত্যকে বড়সড় চ্যালেঞ্জ জানাতে কোমর বাঁধছেন এক ঝাঁক সাংসদ—এমনটাই দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

বিধানসভার ক্ষোভের আগুন এবার পৌঁছে গেছে লোকসভাতেও, এমনটাই দাবি করছে দিল্লি সূত্র। গুঞ্জন উঠেছে, দলের মোট ২৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৮ জনই এখন প্রকাশ্য বিদ্রোহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের আপত্তির মূল জায়গা—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনো অবস্থাতেই লোকসভায় সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না। দিল্লির অলিন্দ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগামী ৮ জুন এই বিক্ষুব্ধ ১৮ জন সাংসদ এক গোপন বৈঠকে বসতে পারেন। আর সেই দিনই তাঁরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে নিজেদের আলাদা গোষ্ঠী বা ফ্রন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানাতে চলেছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে।

বিধানসভা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই জোড়াফুলের ‘দিল্লি চলো’র পরিকল্পনা ধাক্কা খেয়েছিল। এখন যদি সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ সত্যি সত্যিই বিদ্রোহ করে বসেন, তবে দলত্যাগ বিরোধী আইন বাঁচিয়ে দিল্লির সংসদীয় দলও হাতছাড়া হতে পারে। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের অস্তিত্ব বড়সড় সংকটে পড়বে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এতদিন দলটার ভেতরে যে অসন্তোষ চেপে রাখা হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই সেই ভয়ের দেওয়াল ভাঙতে শুরু করেছে। বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্দরের বার্তা— “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য থাকলেও, একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি আর বরদাস্ত করা হবে না।” যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের অফিশিয়াল নেতৃত্ব ও মুখপাত্রদের দাবি, এই ধরণের খবরের কোনো ভিত্তি নেই। এটি বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং দলের সমস্ত জনপ্রতিনিধি ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।

যে রাজনীতি নিয়ে কালীঘাটের কর্ত্রী দিল্লির তখত ওল্টানোর স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তাঁর নিজের দলের অন্দরের সমীকরণই ওলটপালট হওয়ার মুখে। রাজ্য বিধানসভা তো হাতছাড়া হয়েছেই, এবার সুদূর দিল্লিতেও পরিষদীয় দল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে কার্যত মহাসংকটে তৃণমূল। ৮ জুন স্পিকারের ঘরের সেই সম্ভাব্য হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর লোকসভাতেও তৃণমূলের এই সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, এখন সেটাই দেখার।