প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতা হারানোর পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে কি তবে চরম ভাঙন ও হতাশা? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর দল ক্ষমতাচ্যুত হতেই জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত এই বিদায়ী মন্ত্রীর ‘অবসর’ ঘোষণা ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র কটাক্ষ শুরু করেছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন— দল ক্ষমতায় থাকার সময় যিনি সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পেলেন, ভোটে হেরে ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই কি তাঁর এই বৈরাগ্য?
বিদায়ী তৃণমূল সরকারের জমানায় স্নেহাশিস চক্রবর্তী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে যখন দলে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল, তখন কিন্তু স্নেহাশিসবাবুকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি। পরাজয়ের পরেই কেন সিদ্ধান্ত? ২০২৬-এর ঐতিহাসিক পরিবর্তনের নির্বাচনে জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) প্রার্থী প্রসেনজিৎ বাগের কাছে পরাজিত হন তিনি। আর এই হারের পরেই তাঁর রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’র উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, দল ক্ষমতায় থাকার সময় রাজনীতি খুব ভালো লাগলেও, মানুষ প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আনতেই স্নেহাশিসবাবুর এই ‘মোহভঙ্গ’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল শুরু হয়েছে। দল ছাড়ার পরেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্নেহাশিসবাবু। রাজনৈতিক মহলের একাংশের জল্পনা, বিদায়ী দলের মানসিকতা থেকে দূরত্ব তৈরি করতেই কি নতুন সরকারের প্রধানের এই প্রশংসা?
২০২৬-এর ঐতিহাসিক রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন। জাঙ্গিপাড়ার মানুষ ইভিএমের মাধ্যমে বিদায়ী মন্ত্রীকে যেমন জবাব দিয়েছেন, তেমনই রাজ্যবাসীও তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। বিদায়বেলায় স্নেহাশিসবাবু নিজেই স্বীকার করেছেন যে দলের ভেতরে কিছু জুলুম ও খামতি ছিল। তবে আমজনতার প্রশ্ন, মন্ত্রী থাকাকালীন কেন তিনি এই বিষয়ে সরব হলেন না?
রাজনীতিতে ক্ষমতা হারানোর পর এই ধরণের সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার অলিন্দে থাকার পর, দল ক্ষমতাচ্যুত হতেই বিদায় নেওয়ার এই ঘটনাকে সাধারণ মানুষ কীভাবে নেবেন, তা সময়ই বলবে।