এখন পড়ছেন
হোম > রাজ্য > আরামবাগে হেভিওয়েট সংখ্যালঘু তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুন, অভিযুক্ত যুবরা, এলাকা ছাড়া হতেই পার্টি অফিসের দখল মাদারের

আরামবাগে হেভিওয়েট সংখ্যালঘু তৃণমূল নেতাকে পিটিয়ে খুন, অভিযুক্ত যুবরা, এলাকা ছাড়া হতেই পার্টি অফিসের দখল মাদারের

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলে আসছেন যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে যত না বিজেপির উত্থান চিন্তার, তার থেকেও বেশি মাথা ব্যাথা হতে চলেছে নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দল সামাল দেওয়া। আর এই নিয়ে দলের অন্যান্য শীর্ষনেতাদের পাশাপাশি প্রকাশ্যে বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং দলের সর্বোচ্চনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, সেই গোষ্ঠীকোন্দল থামা বা কমার কোনো লক্ষনই দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে।

আর এবার সেই গোষ্ঠীকোন্দলের রেশ এসে পড়ল শাসকদলের অন্যতম ‘নিশ্চিত আসন’ আরামবাগেও! সেখানকার হেভিওয়েট সংখ্যালঘু তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন কর্মাধক্ষ খুনের পর এবার যুবদের হাতে দখল হয়ে যাওয়া পার্টি অফিসগুলোর নিজেদের দখলে নিতে শুরু করল তৃণমূলের মাদার নেতৃত্বরা। একাংশের অভিযোগ, শাসকদলের নেতা শেখ মুক্তার খুনের ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে এলাকার তৃণমূলেরই যুব সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে।

যার জেরে যুবর বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী এলাকা ছাড়া হয়েছেন। ফলে এবার যুবর পক্ষ থেকে দখল করে নেওয়া পার্টি অফিসগুলো ফের নিজেদের দখলে নিয়ে নিল শাসকদলের মাদার নেতৃত্ব বলে স্থানীয় সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত রবিবার রাতেই আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন কৃষি, সেচ ও সমবায় দপ্তরের কর্মাধক্ষ্য শেখ মুক্তারকে পিটিয়ে খুন করা হয়। জানা যায়, হরিণখোলা এলাকায় দলের কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা শেখ মুক্তার। আর তার পরেই তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মধুরপুর এলাকায় ব্যাপক মারধর করা হয়।

আমাদের নতুন ফেসবুক পেজ (Bloggers Park) লাইক ও ফলো করুন – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের টেলিগ্রাম গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে

আমাদের সিগন্যাল গ্রূপে জয়েন করতে – ক্লিক করুন এখানে



আপনার মতামত জানান -

আর এর ফলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। এদিকে তৃনমূল নেতার মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই থমথমে হয়ে যায় গোটা এলাকা। ইতিমধ্যেই এই খুনের ঘটনায় মোট তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার রাতে ডোমজুড় থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মফিজুল খানকে। এদিকে দলীয় নেতা খুনে অভিযুক্তরা এলাকাছাড়া হওয়ায় এখন হরিণখোলা এলাকায় মাদার তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে পার্টি অফিসের দখল নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই এই এলাকায় যুব সংগঠনের আধিপত্য বাড়তে শুরু করে। ফলে তৃণমূলের মূল সংগঠনের নেতৃত্বরা কিছুটা হলেও কোণঠাসা হয়ে যান। আর এই মূল সংগঠনেই ছিলেন নিহত তৃণমূল নেতা শেখ মুক্তার। সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত নির্বাচনেও যুবর হাতেই বেশিরভাগ ক্ষমতা থাকে। কিন্তু মূল সংগঠনের এক সদস্যকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে টিকিট দেওয়ায় মাদার নেতৃত্বের সঙ্গে যুব সংগঠনের প্রবল বিরোধ বাধে। আর এরপরই শেখ মুক্তারের খুনের ঘটনায় অনেকেই মনে করছেন যে এতে যুব সংগঠনেরই হাত আছে।

ফলে যুবনেতারা প্রায় সকলেই এলাকা ছাড়া – আর সেই সুযোগে হরিণখোলা, মধুরপুর, মায়াপুর এবং কাবলের মতো এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলো ফের খুলতে শুরু করেছেন শাসক দলের মূল সংগঠনের কর্মী সমর্থকরা। এদিন এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মূল সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই যুবর চাপে অনেক কর্মী বসে গিয়েছেন। পরে নিজেদের মধ্যে কর্মসূচি নিলেও কিছু যুবনেতার নির্দেশে আমাদের পুরনো কর্মীদের উপর মারধর করা হয়। এমনকি মুক্তার সাহেবকেও খুন করা হয়। সব মিলিয়ে আরামবাগের হেভিওয়েট তৃণমূলের সংখ্যালঘু নেতার মৃত্যুর পরেও শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কমার কোন লক্ষণ নেই – যা শাসকদলের চিন্তা বাড়াচ্ছে লোকসভা নির্বাচনের আগে।

আপনার মতামত জানান -

Top
error: Content is protected !!