প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন রাজনৈতিক আবহের মাঝেই এবার খোদ বিজেপির অন্দরেই লেগে গেল এক বিরাট ধাক্কা! রাজ্য নেতৃত্ব এবং দলের ভূমিকা নিয়ে নিজের চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে এক অবিশ্বাস্য বয়ান দিলেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ। শনিবার বিকেলে কোচবিহারে তাঁর দেওয়া এই একটি মাত্র বিবৃতিতেই এখন সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা উত্তরবঙ্গ তথা রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ আর চেপে রাখতে পারেননি বিজেপি সাংসদ। সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তোপ দেগে তিনি বলেন, “আমি বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে এনেছি। এখন ওরা সরকারে এসেছে।” এরপরই মারাত্মক ক্ষোভের সাথে তিনি যোগ করেন, “ওরা এখন কুত্তাকে দাম দেয়, কিন্তু আমাকে কোনো দাম দেয় না!” বিজেপির এই হেভিওয়েট সাংসদের মুখে এমন নজিরবিহীন “কুকুর” শব্দপ্রয়োগ এবং দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।

অনন্ত মহারাজের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর কোচবিহার জেলা বিজেপি নেতৃত্বের অন্দরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই প্রসঙ্গে কোচবিহারের জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “উনি ঠিক কী পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ না জেনে আমি কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য দেব না।” তবে দলের এক সাংসদের এই ধরণের মন্তব্যের পর যে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব রীতিমতো ব্যাকফুটে, তা স্পষ্ট।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির সাথে অনন্ত মহারাজের দূরত্ব নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভা বা দলের একাধিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তাঁকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের দাবি-দাওয়া এবং বঞ্চনা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অন্তরে ক্ষোভ পুষে রেখেছেন। কয়েক মাস আগেই রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান গ্রহণ করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে একই মঞ্চ ভাগ করেছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। আর এবার সরাসরি দলকে কটাক্ষ করে তিনি যে বড় কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।