তৃণমূল কাউন্সিলাররের উদ্যোগে কোর্ট মাঠে উৎসব,তবুও ভবিষ্যত কিন্তু চিন্তায়। রাজ্য January 30, 2018 তিন দশক পরে আবার জমজমাট করে শ্রীরামপুর কোর্ট মাঠে শ্রীরামপুরের ওুার্ড কমিটির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হল। তবে আগে ফি বছর যে উচ্চাঙ্গ সংগীতের উৎসব হত এ বছর সেই চিত্র দেখা গেল না বরং এদিনের সভা আলো করে ছিলেন অভিনেতা তথা সাংসদ দেব। উনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোগতা ছিলেন শ্রীরামপুর পুরোসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার পাপ্পু সিংহ। এদিনের অনুষ্ঠানে মানুষের সমাগম ছিল উল্লেখযোগ্য, দেব কে দেখতে সকলেই খুব উৎসাহের সাথে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তবে অনুষ্ঠান নিয়ে অনেকেই অখুসী, বিশেষত প্রবীন নাগরিকরা পুরাতন উচ্চাঙ্গ সংগীতের আসরের স্মতি ধরেই বসে আছেন। সেরকম এক প্রবীন ব্যক্তি জানান, ” শ্রীরামপুর সঙ্গীত সমাজের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান আগে হত স্টেশন সংলগ্ন শ্রীরামপুর টকিজে। প্রক্ষাগৃহ ঠাসা থাকত । অনুষ্ঠান শুনতথ স্টেশানের ৩ ও ৪ নম্বর প্লাটফর্মে বহু মানুষ ভির জমাতেন।” তাঁদের কথায় ১৯৫৭ থেকে শুরু হয়ে আটের দশকের পর আর অনুষ্ঠান হয় নি। স্থানীয়রা জানায় আগের অনুষ্ঠানে বিলায়াৎ খাঁ, ভীমসেন যোশী, আলাউদ্দিন খাঁ, রাধাকান্ত নন্দী, মালবিকা কানন, বিসমিল্লা খাঁ, ওস্তাদ কেরামাতুল্লাহা, পন্ডিত রবিশঙ্কর, অজয় চক্রবর্তী সহ আরও অনেক শিল্পী এসেছেন ওই অনুষ্ঠানে। এছাড়াও নৃত্য শিল্পী হিসাবে হেমা মলিনিও এসেছিলেন একবার, এর সাথেই কিছু বছর আইনজীবিদের ক্রিকেট খেলা হত, বলে জানান স্থানীয়রা। তৎকালীন ডেনমার্ক উপনিবেসের এই জায়গা আদালত ভবন ও মহকুমাশাসকের কমন জায়গা। তাই জায়গার দখল নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদ চলে বহুদিন, সবশেষে মাঠের দায়িত্ব প্রসাশন গ্রহন করে। তবে স্থানীয়রা এখনও মাঠে অনুষ্ঠান করতে পারবে কিনা সে বিষয়থ নিশ্চিত নন। যদিও এ বিষয়ে বিজেপি জেলা সভাপতি ভাষ্কর ভট্টাচার্যের তরফে মহকুমাশাসক কে চিঠি পাঠানো হয় যাতে যে কোনও দল কে মাঠ ব্যবহারের অধিকার দেওয়া হয়। মহকুমাশাসক রজত নন্দার বক্তব্য , “সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দেন, ” কেউ মাঠ ব্যবহারের আবেদন করলে সব দিক ভেবে অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি ঠিক হবে।” তবে পূর্বের এক ঘটনা প্রসঙ্গে শহরের এক সংস্থার সদস্য বলেন, ” মরণোত্তর চক্ষুদানের প্রচারে এক বার মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বেরিয়েছিল। পরের বার জমায়েত করতে দেওয়া হয়নি।” সাংস্কৃতিক এককর্মী জানান, ” ওই মাঠে অনুষ্ঠানের অনুমতি মিলবে না, এটা যেন অলিখিত নিয়ম ছিল।” বর্তমান পরিস্থিতি বদলের খুসি অনেকেই তবে সব সন্দেহের অবসান কাটিয়ে যাতে এই মাঠের পুরাতন ছন্দ ফিরে আসে সেই দিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা। আপনার মতামত জানান -