প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে বড়সড় রাজনৈতিক রদবদলের পর, এবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ায় এই আসনটিতে উপনির্বাচন সম্পন্ন হতে চলেছে। তবে ভোট ময়দানে আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হওয়ার আগেই প্রার্থী চয়ন নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের আদি সেনাপতি তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এককালীন অত্যন্ত বিশ্বস্ত নেতা শেখ সুফিয়ান এই উপনির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেবল প্রস্তাব ফেরানোই নয়, দলীয় নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসরেরও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে সুফিয়ানের এই ‘বিদ্রোহ’ এবং লড়াই ময়দান থেকে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সামগ্রিক সংগঠন ও আত্মবিশ্বাসকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সূত্রে খবর, নন্দীগ্রামে এর আগে দাঁড়িয়ে পরাজিত হওয়া পবিত্র কর ইতিমধ্যেই পুনরায় প্রার্থী হতে তীব্র অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। এরপরই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে তৃণমূলের রাজ্য স্তরের শীর্ষনেত্রী দোলা সেন স্বয়ং হাজির হন শেখ সুফিয়ানের নন্দীগ্রামের বাসভবনে। সুফিয়ানকে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে জোরালো অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের জমাট বাঁধা ক্ষোভ উগরে দিয়ে সুফিয়ান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “২০০৬ সালে আমি তৃণমূলের হয়ে লড়াই করেছিলাম। তারপর থেকে এতদিন প্রার্থী করার জন্য দল আর আমার কথা ভাবেনি। আজ দল সংকটে পড়েছে বলে আমার কথা মনে পড়েছে? আমি আর ওই জায়গায় পা দেব না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে ও জামাই সহ গোটা পরিবারই তাঁকে বেইজ্জতি সহ্য না করে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং সেই কারণে তিনি রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের দাবি, সুফিয়ানের এই বয়ান ও সিদ্ধান্ত আসলে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কারই এক পরোক্ষ বহিঃপ্রকাশ। পবিত্র করের পর শেখ সুফিয়ানের মতো হেভিওয়েট নেতার এভাবে হাত তুলে নেওয়া প্রমাণ করছে যে, শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে দাঁড়িয়ে পরাজয়ের গ্লানি নিতে আর কোনো বড় নেতাই ‘বলির পাঁঠা’ হতে রাজি নন। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রামে তৃণমূল যেভাবে কার্যত অভিভাবকহীন ও নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ল, তাতে এই উপনির্বাচনে বিজেপির রাজনৈতিক অ্যাডভান্টেজ অনেকটাই বেড়ে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।